রাজধানী বকশীবাজারের সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া (ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা) ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিবিরের নেতাকর্মীরা এলাকা ত্যাগ করেন। পরে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা আল্লামা কাশগরী (রহ.) আবাসিক হলে প্রবেশ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হলে প্রবেশের পর কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হক বাধা দিতে গেলে তাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে দিয়ে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকশ নেতাকর্মী হলে প্রবেশ করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা হলের বাইরে অবস্থান করছিলেন।
হলে তালা দেওয়ার বিষয়ে আলিয়া মাদ্রাসার ফাজিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা মো. ইব্রাহীম বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই হল তালাবদ্ধ করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তা খুলে দেওয়া হবে।”
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর পূর্বের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক দাউদ খান দাবি করেন, ছাত্রদল ও যুবদলের হামলায় তাদের ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের একজন, ফুয়াদের মাথায় ১২টি সেলাই লেগেছে এবং তার অবস্থা গুরুতর।
অন্যদিকে, ছাত্রদলের ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা শাখার নেতা সাদ চৌধুরীর দাবি, শিবিরের হামলায় তাদের ৩০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছাত্রদল ও যুবদলের দুজনের অবস্থা গুরুতর।
দু'পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় হলের কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ও অবস্থান নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে। শিবিরের অভিযোগ, ছাত্রদল প্রথমে হলে ঢুকে তাদের মারধর ও কয়েকটি কক্ষে তালা দেয়। অন্যদিকে ছাত্রদলের দাবি, ৫ আগস্টের পর থেকে শিবির হলের কয়েকটি কক্ষ দখলে রেখেছিল এবং নতুন করে বহিরাগতদের হলে তোলাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা তৈরি হয়।
বিকেলে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করলে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
বর্তমানে বকশীবাজার ও আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।