প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ৪:০৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ৬:৩৭ পি.এম
মিরপুরে সাংবাদিকের বাসায় হামলা ও গুলিবর্ষণকারী ‘ফোর স্টার’ গ্রুপের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার: উদ্ধার অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা

রাজধানীর মিরপুর, পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টিকারী কিশোর গ্যাং এবং কুখ্যাত 'ফোর স্টার' মশিউর/মামুন ও মোক্তার গ্রুপের ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
গত ১৩ অক্টোবর রাতে র্যাব-৪ (এসআরবি-৪)-এর একটি আভিযানিক দল পল্লবী থানাধীন সিরামিক্স এবং ১২ নম্বর ঝিলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলো:
১. মোঃ জুয়েল রানা (২৬)
২. মোঃ সায়মন (২০)
৩. মোঃ রমজান (২২)
৪. মোঃ বিজয় (২৩)
৫. মোঃ ফজলে রাব্বি চিকু (২৩)
৬. মোঃ আফসার হোসেন জিম (১৯)
৭. মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন
৮. মোঃ মিশন ইসলাম ওরফে মিনহাজুল ইসলাম
অস্ত্র, গুলি ও মাদক উদ্ধার
অভিযানকালে আফসার হোসাইন জিম ও তার প্রধান সহযোগী মোঃ সায়মন (২০)-এর কাছ থেকে ১টি বিদেশী পিস্তল ও ১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গ্রুপের অন্যতম সক্রিয় সদস্য 'দাদা জাহাঙ্গীর' ওরফে মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছ থেকে ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং নগদ ১৬,০০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
অপরাধের ধরণ ও সদস্যদের ভূমিকা
মামলার এজাহার ও র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে:
- আফসার হোসাইন জিম (১৯) ও সায়মন (২০): জিম 'ফোর স্টার' গ্রুপের উদীয়মান শুটার হিসেবে পরিচিত। সে মূল হোতা মশিউর/মামুনের হয়ে বিভিন্ন জমি ও স্থান দখল, হোটেল রুমে আটকে রেখে ব্ল্যাকমেইল এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে চাঁদাবাজি করে আসছিল। তার সহযোগী সায়মন জিমের নির্দেশে বিভিন্ন স্থানে অস্ত্র পৌঁছে দেওয়া এবং সরাসরি গু/লি/ব/র্ষ/ণে/র ঘটনায় সামনের সারিতে থাকত।
- দাদা জাহাঙ্গীর: সে এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করত। তার নামে আগে থেকেই ২টি মাদক মামলা রয়েছে।
- মোঃ বিজয় (২৩): 'ফোর স্টার' গ্রুপের সক্রিয় অস্ত্রধারী সদস্য। বর্তমানে সে 'চোরা সেলিম' ও 'বাঘা মনির'-এর হয়ে কিশোর গ্যাং পরিচালনা করে আসছে। বিজয়ের নামে পল্লবী থানায় ২টি মামলা রয়েছে।
- মোঃ রমজান (২২) ও ফজলে রাব্বি চিকু (২৩): রমজান বর্তমানে 'চোরা সেলিম' ও 'কাশেম'-এর হয়ে কাজ করে (তার নামে ২টি মামলা আছে)। আর চিকু অস্ত্রধারী সদস্য হিসেবে কাশেম, বাঘা মনির ও প্রকাশের সাথে জড়িত (তার নামে ১টি মামলা আছে)।
- জুয়েল রানা ওরফে কাল্লু জুয়েল (২৬): সে মোক্তার গ্রুপের সক্রিয় অস্ত্রধারী সদস্য এবং বর্তমানে মোক্তারের বিশ্বস্ত সহযোগী সাবু ও পাগলা মামুনের হয়ে কাজ করছে।
- মিশন ইসলাম ওরফে চোর মিশন: সে এলাকায় একটি চোর চক্র পরিচালনা করে এবং ঝিলপাড় আনবিক বড়িতে চোরাই মালামাল কেনাবেচা করে। তার নামে ২টি দস্যুতার মামলা রয়েছে।
সাংবাদিকের বাসায় হামলা ও আতঙ্ক
সম্প্রতি মিরপুর, পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী গ্রুুপগুলো প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে এক সংবাদকর্মীর বাসায় হামলা ও গুলিবর্ষণের মতো অপরাধ সংঘটিত করে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অস্ত্র প্রদর্শন, মহড়া, চাঁদাবাজি ও নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং এদের অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
www.protidinmirpur.com