মিরপুরে রাড্ডা কাণ্ড: গ্রুপিং ও প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে লন্ডভন্ড বিএনপি, সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়ার শঙ্কা! মিরপুর জুড়ে রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ নিতে পারে!
মিরপুরের রাড্ডা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনগুলোতে তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গ্রুপিং প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলটির সাংগঠনিক কাঠামো একপ্রকার ভেঙে পড়েছে এবং দেখা দিয়েছে চরম নেতৃত্বশূন্যতা।
ইতোমধ্যেই ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র থেকে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি: সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং মোস্তফা জামানের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল: শরিফ উদ্দিন জুয়েল এবং সাজ্জাদুল মিরাজের নেতৃত্বাধীন কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদল: রবিন খান ও আকরাম আহমেদের নেতৃত্বাধীন কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে।
রাড্ডা কাণ্ডের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে একাধিক অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। তবে বহিষ্কারাদেশে সরাসরি রাড্ডা কাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র জানায়, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি: ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুল ইসলাম শুভ্র, শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী এবং নিউ সি ব্লক বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার।
ছাত্রদল: ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সরোয়ার আলম পিয়াস, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জিন্না, দারুসসালাম থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন দিপু, সদস্য সচিব ওমর নাঈম এবং ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল নেতা শান্ত রহমান।
যুবদল: শাহ আলী থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নূর আলম, থানা যুবদল নেতা মিশু মোল্লা, আকবর, কবির এবং সোহেল।
স্বেচ্ছাসেবক দল: দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আক্তার হোসেন মামুন এবং সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম হাফিজ।
শ্রমিক দল: শাহ আলী থানা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন, জাহাঙ্গীর এবং হুজাইফা।
থমথমে পরিস্থিতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাদা ছোড়াছুড়ি:
রাড্ডা কাণ্ডের জের ধরে ইতোমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। মূল ধারার রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র কাদা ছোড়াছুড়ি চলছে, যা এলাকার রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
বর্তমানে পুরো মিরপুর এলাকাতেই এক ধরণের থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
অপরাধী চক্রের তৎপরতা ও বিশ্লেষকদের উদ্বেগ
বিএনপির কোন্দল ও সাংগঠনিক শূন্যতার সুযোগে মিরপুরে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠছে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ফোর স্টার গ্রুপ’, ‘ভইরা গ্রুপ’ এবং ‘আশিক বাহিনী’র মতো দুর্ধর্ষ অপরাধী চক্রগুলো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি যদি অবিলম্বে মিরপুরের রাজনীতিকে সুসংগঠিত না করতে পারে এবং তৃণমূলকে শক্তিশালী না করে, তবে অভ্যন্তরীণ এই কোন্দল খুব দ্রুতই পুরো মিরপুর জুড়ে রক্তক্ষয়ী সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।