October 27, 2026, 4:30 am
শিরোনাম:
‎রংপুরে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন: অভিযুক্ত জামায়াত নেতা বললেন, ‘একটু শাসন করা হয়েছে’ ‎ ‎রংপুরের পীরগঞ্জে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামির নেতার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে রাতভর নিষ্ঠুর নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি নামাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক।এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে উপজেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ‎ ‎প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়—টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি গ্রামের বাসিন্দা আতাউর মাস্টার স্থানীয় টুকুরিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সহসভাপতি। তার মেয়ে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই বিদ্যালয়ের একই শ্রেণিতে পড়ুয়া দুদিয়াবাড়ী গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাজিদের সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন আতাউর মাস্টার ও তার স্বজনরা। সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে শনিবার রাত ৯টার দিকে কিশোর সাজিদকে ধরে নিয়ে যান ঐ জামায়াত নেতা ও তার লোকজন। এরপর সাজিদকে একটি গাছে রশি দিয়ে হাত বেঁধে লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। এক পর্যায়ে কিশোরটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে জামায়াত নেতার স্বজন ও পরিবারের কয়েক জন নারী সদস্য তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে সাজিদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেন আতাউর মাস্টার ও তার সহযোগীরা। পর দিন ভোরে স্বজন ও এলাকাবাসীকে ডেকে এনে সাজিদকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ‎ ‎নির্যাতনের শিকার সাজিদ হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে জানায়, মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে সারা রাত গাছে হাত বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। ‎ ‎ ‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আতাউর মাস্টার বলেন, ‘ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতিসহ আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেছি।’ মারধরের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ‘একটু শাসন করা হয়েছে।’ তবে পীরগঞ্জের টুকুরিয়া ইউনিয়নের জামায়াতের সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানতে পেরে রাতে সেখানে গিয়েছিলাম। পরে অসুস্থ বোধ করায় চলে আসি।’ ‎ ‎ ‎নির্যাতিত সাজিদের স্বজনরা জানান, জামায়াত নেতা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় পুরো ঘটনাটি চেপে যাওয়ার জন্য তাদের অনবরত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। ‎ ‎রংপুরের পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‎ ‎ পদত্যাগ চেয়েছি, মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীঃ ইশরাক হোসেন, এমপি মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে বিশেষ পরিকল্পনা: মাহ্দী আমিন মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু: ৩৩৮ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ শুরু মিরপুরে সাংবাদিকের বাসায় হামলা ও গুলিবর্ষণকারী ‘ফোর স্টার’ গ্রুপের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার: উদ্ধার অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা গোয়েন্দা তালিকায় ঢাকার প্রধান ৫৪৫ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নির্দেশ, মামলায় সংশয় পুলিশের মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতিতে সৌদি প্রবাসীদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করলো রিয়াদ দূতাবাস সরকারি বাঙলা কলেজে উপবৃত্তি আবেদনে শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদলের মোহাম্মদ আলী নিরব আন্দোলন সংগ্রাম, দলের আনুগত্য ও রাজনৈতিক পথচলা: আলোচনায় বিএনপি নেতা মামুন হাসান

অস্ত্র রাখার অভিযোগ দিয়ে মারধর করেছিল সহপাঠীরা, সিজিপিএ-৪ নিয়ে ডিনস অ্যাওয়ার্ড পেলেন সেই ছাত্রদল নেতা

স্টাফ রিপোর্টার

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যাগে ধারালো অস্ত্র রাখার অভিযোগে সহপাঠীদের থেকে মারধরের শিকার হয়েছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. আজহারুল ইসলাম। সেই ঘটনার প্রায় ১৯ মাস পর একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ডিন’স অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএর এই শিক্ষার্থী বর্তমানে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সক্রিয় নেতা ও আশুলিয়া থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ডিন’স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ অনুষ্ঠানে গ্রীষ্মকালীন ২০২৫, শরৎ ২০২৫ ও বসন্ত ২০২৬ সেমিস্টারের একাডেমিক কৃতিত্বের জন্য মোট ৪১৫ শিক্ষার্থীকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে আজহারুল ইসলামও রয়েছেন।

আজহারুল ইসলামের একাডেমিক পথচলায় আলোচিত ওই ঘটনা ঘটে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি। সেদিন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এলাকায় তার ব্যাগে ধারালো অস্ত্র পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করেন। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানিয়েছিলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই ঘটনায় আজহার নিজেকে ফাঁসানোর দাবি করেছিলেন। ড্যাফোডিল ছাত্রদলের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক ফেরদৌসও ঘটনাটিকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেছিলেন।

ঘটনার প্রায় ১৯ মাস পর বিষয়টি নিয়ে আজহার দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্তে তার ব্যাগে অস্ত্র থাকার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

তার ভাষ্য, ‘প্রশাসন আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল তাদের (যারা অস্ত্র পাওয়ার অভিযোগে মারধর করেছিলো) দেখলে চিনতে পারবো কিনা। আমি বলেছিলাম প্রধানত যে করেছে তাকে চিনব, পরে আমার চশমা খুলে নেয়া হয়েছিল। প্রশাসন হয়তো ভেবেছিল আমাকে মারধর করা বাকিদের চিনব না, প্রশাসন গড়িমসি করে সব শেষ করে‌ দেয়, বলে মামলা হলেও কোন প্রমাণ পাওয়া যাবে না এবং মামলা চলাকালীন আমাদের এসময় পর্যন্ত স্টুডেন্টশিপ বাতিল থাকবে, এতে আমরাই ক্ষতিগ্রস্থ হবো। কিন্তূ কাছের জিনিস আমি ঠিকঠাক দেখতে পাই, দূরের জিনিস কম দেখলেও।’

ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে জানতে চাইলে আজহার বলেন, ‘পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে কয়েকজনকে শনাক্ত করতে পেরেছিলাম। মিথ্যা দিয়ে সাময়িকভাবে মানুষকে অপদস্ত করা গেলেও, চূড়ান্ত সফলতা কখনো আটকে রাখা সম্ভব নয়।’

জানা যায়, আশুলিয়ার শ্রীখণ্ডিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী মফিজ উদ্দীন সিকদার ও শিমুল সুলতানা সিমা দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান আজহার। ২০২০ সালে ‘প্রতিভা আইডিয়াল স্কুল’ থেকে জিপিএ ৪.৭৮ নিয়ে এসএসসি এবং ২০২২ সালে ‘মাইলস্টোন কলেজ’ থেকে জিপিএ ৫.০০ (গোল্ডেন প্লাস) পেয়ে এইচএসসি পাস করেন তিনি।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির ওই ঘটনার সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। বর্তমানে তিনি তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারে পড়ছেন।

আজহারুল ইসলাম ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ২৪২ ব্যাচের ফল-২০২৪ সেমিস্টারে বিবিএর ৬৭তম ব্যাচে ভর্তি হন। এখন পর্যন্ত ছয় সেমিস্টারের ফলাফলে তিনি ফল ২০২৪-এ ৩.৯১, স্প্রিং ২০২৫-এ ৩.৮৮, সামার ২০২৫-এ ৪.০০, ফল ২০২৫-এ ৩.৯৬, স্প্রিং ২০২৬-এ ৪.০০ এবং সামার ২০২৬-এ ৪.০০ পেয়েছেন।

ছয় সেমিস্টারের মধ্যে তার সর্বনিম্ন ফলাফল স্প্রিং ২০২৫ সেমিস্টারে ৩.৮৮। ওই সেমিস্টারেই তিনি মারধরের শিকার হয়েছিলেন। তিনটি সেমিস্টারে তিনি পূর্ণ ৪.০০ পেয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের ডিন’স অ্যাওয়ার্ডে সামার ২০২৫, ফল ২০২৫ ও স্প্রিং ২০২৬ সেমিস্টারের একাডেমিক কৃতিত্বের জন্য শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ফলে ওই তিন সেমিস্টারে আজহারের ধারাবাহিক ফলাফলও এবারের একাডেমিক স্বীকৃতির আওতায় এসেছে।

নিজের অর্জন সম্পর্কে আজহার বলেন, ‘Dean’s Award আমার কাছে শুধু একটি পুরস্কার নয়; এটি আমার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং কঠিন সময়েও নিজের লক্ষ্যে অটুট থাকার স্বীকৃতি। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রেখে এই অর্জন করতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। যারা আমাকে থামিয়ে দিতে চেয়েছিল, তাদের প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। আমার সাফল্যই আমার সবচেয়ে বড় উত্তর।’

আজহারুল ইসলাম বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ছাত্রদলের সক্রিয় নেতা ও আশুলিয়া থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ঘটনার পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে গিয়ে নতুন কোনো বাধার মুখে পড়তে হয়নি। বিশেষ করে ড্যাফোডিল ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক ফেরদৌস তাকে মানসিকভাবে সহযোগিতা করেছেন বলে জানান তিনি।

রাজনীতি ও পড়াশোনা কীভাবে একসঙ্গে সামলাচ্ছেন—দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের এমন প্রশ্নের জবাবে আজহার বলেন, ‘ড্যাফোডিল ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক ফেরদৌস ভাই পড়াশোনার পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করছেন। তিনি কখনো কোনো কিছু চাপিয়ে না দিয়ে তরুণদের দেশের ইতিবাচক পরিবর্তনে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেয়।’

রাজনীতিতে আসার অনুপ্রেরণা প্রসঙ্গে আজহার ঢাকার ১৯ আসনের সংসদ সদস্য ড. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, বিসিএস ক্যাডার চিকিৎসক হয়েও তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন—এই বিষয়টি তাকে রাজনীতিতে আসতে অনুপ্রাণিত করেছে।



‎রংপুরে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন: অভিযুক্ত জামায়াত নেতা বললেন, ‘একটু শাসন করা হয়েছে’ ‎ ‎রংপুরের পীরগঞ্জে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামির নেতার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে রাতভর নিষ্ঠুর নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি নামাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক।এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে উপজেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ‎ ‎প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়—টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি গ্রামের বাসিন্দা আতাউর মাস্টার স্থানীয় টুকুরিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সহসভাপতি। তার মেয়ে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই বিদ্যালয়ের একই শ্রেণিতে পড়ুয়া দুদিয়াবাড়ী গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাজিদের সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন আতাউর মাস্টার ও তার স্বজনরা। সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে শনিবার রাত ৯টার দিকে কিশোর সাজিদকে ধরে নিয়ে যান ঐ জামায়াত নেতা ও তার লোকজন। এরপর সাজিদকে একটি গাছে রশি দিয়ে হাত বেঁধে লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। এক পর্যায়ে কিশোরটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে জামায়াত নেতার স্বজন ও পরিবারের কয়েক জন নারী সদস্য তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে সাজিদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেন আতাউর মাস্টার ও তার সহযোগীরা। পর দিন ভোরে স্বজন ও এলাকাবাসীকে ডেকে এনে সাজিদকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ‎ ‎নির্যাতনের শিকার সাজিদ হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে জানায়, মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে সারা রাত গাছে হাত বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। ‎ ‎ ‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আতাউর মাস্টার বলেন, ‘ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতিসহ আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেছি।’ মারধরের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ‘একটু শাসন করা হয়েছে।’ তবে পীরগঞ্জের টুকুরিয়া ইউনিয়নের জামায়াতের সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানতে পেরে রাতে সেখানে গিয়েছিলাম। পরে অসুস্থ বোধ করায় চলে আসি।’ ‎ ‎ ‎নির্যাতিত সাজিদের স্বজনরা জানান, জামায়াত নেতা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় পুরো ঘটনাটি চেপে যাওয়ার জন্য তাদের অনবরত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। ‎ ‎রংপুরের পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‎ ‎

‎রংপুরে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন: অভিযুক্ত জামায়াত নেতা বললেন, ‘একটু শাসন করা হয়েছে’ ‎ ‎রংপুরের পীরগঞ্জে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামির নেতার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে রাতভর নিষ্ঠুর নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি নামাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক।এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে উপজেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ‎ ‎প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়—টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি গ্রামের বাসিন্দা আতাউর মাস্টার স্থানীয় টুকুরিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সহসভাপতি। তার মেয়ে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই বিদ্যালয়ের একই শ্রেণিতে পড়ুয়া দুদিয়াবাড়ী গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাজিদের সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন আতাউর মাস্টার ও তার স্বজনরা। সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে শনিবার রাত ৯টার দিকে কিশোর সাজিদকে ধরে নিয়ে যান ঐ জামায়াত নেতা ও তার লোকজন। এরপর সাজিদকে একটি গাছে রশি দিয়ে হাত বেঁধে লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। এক পর্যায়ে কিশোরটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে জামায়াত নেতার স্বজন ও পরিবারের কয়েক জন নারী সদস্য তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে সাজিদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেন আতাউর মাস্টার ও তার সহযোগীরা। পর দিন ভোরে স্বজন ও এলাকাবাসীকে ডেকে এনে সাজিদকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ‎ ‎নির্যাতনের শিকার সাজিদ হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে জানায়, মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে সারা রাত গাছে হাত বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। ‎ ‎ ‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আতাউর মাস্টার বলেন, ‘ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতিসহ আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেছি।’ মারধরের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ‘একটু শাসন করা হয়েছে।’ তবে পীরগঞ্জের টুকুরিয়া ইউনিয়নের জামায়াতের সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানতে পেরে রাতে সেখানে গিয়েছিলাম। পরে অসুস্থ বোধ করায় চলে আসি।’ ‎ ‎ ‎নির্যাতিত সাজিদের স্বজনরা জানান, জামায়াত নেতা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় পুরো ঘটনাটি চেপে যাওয়ার জন্য তাদের অনবরত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। ‎ ‎রংপুরের পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‎ ‎