October 28, 2026, 5:44 am
শিরোনাম:
‎রংপুরে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন: অভিযুক্ত জামায়াত নেতা বললেন, ‘একটু শাসন করা হয়েছে’ ‎ ‎রংপুরের পীরগঞ্জে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামির নেতার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে রাতভর নিষ্ঠুর নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি নামাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক।এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে উপজেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ‎ ‎প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়—টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি গ্রামের বাসিন্দা আতাউর মাস্টার স্থানীয় টুকুরিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সহসভাপতি। তার মেয়ে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই বিদ্যালয়ের একই শ্রেণিতে পড়ুয়া দুদিয়াবাড়ী গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাজিদের সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন আতাউর মাস্টার ও তার স্বজনরা। সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে শনিবার রাত ৯টার দিকে কিশোর সাজিদকে ধরে নিয়ে যান ঐ জামায়াত নেতা ও তার লোকজন। এরপর সাজিদকে একটি গাছে রশি দিয়ে হাত বেঁধে লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। এক পর্যায়ে কিশোরটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে জামায়াত নেতার স্বজন ও পরিবারের কয়েক জন নারী সদস্য তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে সাজিদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেন আতাউর মাস্টার ও তার সহযোগীরা। পর দিন ভোরে স্বজন ও এলাকাবাসীকে ডেকে এনে সাজিদকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ‎ ‎নির্যাতনের শিকার সাজিদ হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে জানায়, মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে সারা রাত গাছে হাত বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। ‎ ‎ ‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আতাউর মাস্টার বলেন, ‘ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতিসহ আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেছি।’ মারধরের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ‘একটু শাসন করা হয়েছে।’ তবে পীরগঞ্জের টুকুরিয়া ইউনিয়নের জামায়াতের সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানতে পেরে রাতে সেখানে গিয়েছিলাম। পরে অসুস্থ বোধ করায় চলে আসি।’ ‎ ‎ ‎নির্যাতিত সাজিদের স্বজনরা জানান, জামায়াত নেতা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় পুরো ঘটনাটি চেপে যাওয়ার জন্য তাদের অনবরত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। ‎ ‎রংপুরের পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‎ ‎ পদত্যাগ চেয়েছি, মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীঃ ইশরাক হোসেন, এমপি মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে বিশেষ পরিকল্পনা: মাহ্দী আমিন মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু: ৩৩৮ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ শুরু মিরপুরে সাংবাদিকের বাসায় হামলা ও গুলিবর্ষণকারী ‘ফোর স্টার’ গ্রুপের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার: উদ্ধার অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা গোয়েন্দা তালিকায় ঢাকার প্রধান ৫৪৫ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নির্দেশ, মামলায় সংশয় পুলিশের মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতিতে সৌদি প্রবাসীদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করলো রিয়াদ দূতাবাস সরকারি বাঙলা কলেজে উপবৃত্তি আবেদনে শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদলের মোহাম্মদ আলী নিরব আন্দোলন সংগ্রাম, দলের আনুগত্য ও রাজনৈতিক পথচলা: আলোচনায় বিএনপি নেতা মামুন হাসান

রাজধানীর মিরপুরে বিএনপির বড় ধরনের পুনর্গঠন: ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, যুবদল ও পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত; বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানীর মিরপুরকে কেন্দ্র করে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ও এর অঙ্গ-সংগঠনগুলোর শীর্ষ রাজনৈতিক কাঠামোতে বড় ধরনের রদবদল ও সাংগঠনিক ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ থাকা ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, যুবদল এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

​একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং এলাকাভিত্তিক অরাজকতার অভিযোগে একাধিক নেতাকে বহিস্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, অতীতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও রাজপথের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নিষ্ক্রিয় বা ভুল বোঝাবুঝির শিকার হওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীদের ওপর থেকে অব্যাহতি আদেশ তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

​মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত ও নতুন নেতৃত্ব গঠনের ইঙ্গিত
​বিএনপির কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুর ও তার আশপাশের এলাকাগুলোতে রাজপথের আন্দোলন জোরদার করতে এবং যুব সমাজকে সংগঠিত করতে নতুন গতি আনার বিকল্প ছিল না।

​ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও যুবদল: ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক ও কার্যকরী কমিটি বিলুপ্ত করে কেন্দ্র থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—শীঘ্রই রাজপথের পরীক্ষিত ও নতুন মুখদের নিয়ে নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে।

​ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদল: মিরপুর, পল্লবী, কাফরুল, শাহ্আলী, দারুসসালাম, রুপনগর, ভাষানটেক, মোহাম্মদপুর,আদাবর, শেরেবাংলা থানা সংলগ্ন এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের মেয়াদ শেষ হওয়ায় কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দারুসসালাম থানা ছাত্রদলের আহবায়ক ইকবাল হোসেন দিপু, সদস্য ওমর নাঈম কে বহিষ্কার করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই নতুন কমিটি গঠন করা হবে।

​শৃঙ্খলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স: বহিষ্কার ও অব্যাহতি আপডেট
​অঙ্গ-সংগঠনগুলোকে সুসংগঠিত করার অংশ হিসেবে একধাপে কঠোর ব্যবস্থা ও সমন্বয় নীতি গ্রহণ করেছে কেন্দ্র:
​শৃঙ্খলা ভঙ্গে কঠোর কঠোরতা (বহিষ্কার): দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য, স্থানীয় প্রভাব বিস্তার বা সামাজিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পল্লবী থানা অধীনস্থ ৯১ নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি মফিজুর রহমান মামুন কে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়।

পাশাপাশি শাহআলী থানা বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক খলিল চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি সদস্য হাফিজুল ইসলাম শুভ্র কে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার সহ শাহআলী থানা ইউনিটের কিছু নেতাকর্মীকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ বহিস্কার করা হয়েছে। হাইকমান্ড স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ সহ্য করা হবে না।

​অন্যদিকে যেসব নেতাকর্মীর নামে পূর্বে অন্যায্যভাবে বহিষ্কার বা শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং যারা দীর্ঘদিন মূলধারার বাইরে ছিলেন, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের নিষ্ক্রিয়তা ও অব্যাহতি আদেশ প্রত্যাহার করে দলে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

​তৃণমূলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও উৎসুক নেতাকর্মীরা
​কমিটি বিলুপ্তির বিজ্ঞপ্তির পর বৃহত্তর মিরপুর এলাকার রাজনীতিতে নতুন এক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মতে, দীর্ঘদিনের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো বহাল থাকায় মাঠপর্যায়ে এক ধরনের স্থবিরতা কাজ করছিল।

​শীর্ষ নেতৃত্বের এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখে একজন মাঠপর্যায়ের নেতা বলেন,
​”মিরপুর বিএনপির প্রাণকেন্দ্র। আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ত্যাগ স্বীকার করা নেতাদের সামনে আনার এই উদ্যোগ দলকে বহুগুণ শক্তিশালী করবে। বিশৃঙ্খলাকারীদের স্থান হবে না, আর ত্যাগীরা যথাযথ মূল্যায়ন পাবেন।”
​কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন আহ্বায়ক ও আংশিক কমিটির নাম প্রকাশ করা হবে, যা মিরপুর কেন্দ্রিক সামগ্রিক রাজনীতিতে এক নতুন মোড় আনবে।



‎রংপুরে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন: অভিযুক্ত জামায়াত নেতা বললেন, ‘একটু শাসন করা হয়েছে’ ‎ ‎রংপুরের পীরগঞ্জে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামির নেতার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে রাতভর নিষ্ঠুর নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি নামাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক।এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে উপজেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ‎ ‎প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়—টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি গ্রামের বাসিন্দা আতাউর মাস্টার স্থানীয় টুকুরিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সহসভাপতি। তার মেয়ে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই বিদ্যালয়ের একই শ্রেণিতে পড়ুয়া দুদিয়াবাড়ী গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাজিদের সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন আতাউর মাস্টার ও তার স্বজনরা। সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে শনিবার রাত ৯টার দিকে কিশোর সাজিদকে ধরে নিয়ে যান ঐ জামায়াত নেতা ও তার লোকজন। এরপর সাজিদকে একটি গাছে রশি দিয়ে হাত বেঁধে লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। এক পর্যায়ে কিশোরটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে জামায়াত নেতার স্বজন ও পরিবারের কয়েক জন নারী সদস্য তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে সাজিদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেন আতাউর মাস্টার ও তার সহযোগীরা। পর দিন ভোরে স্বজন ও এলাকাবাসীকে ডেকে এনে সাজিদকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ‎ ‎নির্যাতনের শিকার সাজিদ হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে জানায়, মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে সারা রাত গাছে হাত বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। ‎ ‎ ‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আতাউর মাস্টার বলেন, ‘ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতিসহ আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেছি।’ মারধরের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ‘একটু শাসন করা হয়েছে।’ তবে পীরগঞ্জের টুকুরিয়া ইউনিয়নের জামায়াতের সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানতে পেরে রাতে সেখানে গিয়েছিলাম। পরে অসুস্থ বোধ করায় চলে আসি।’ ‎ ‎ ‎নির্যাতিত সাজিদের স্বজনরা জানান, জামায়াত নেতা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় পুরো ঘটনাটি চেপে যাওয়ার জন্য তাদের অনবরত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। ‎ ‎রংপুরের পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‎ ‎

‎রংপুরে কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতন: অভিযুক্ত জামায়াত নেতা বললেন, ‘একটু শাসন করা হয়েছে’ ‎ ‎রংপুরের পীরগঞ্জে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামির নেতার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে রাতভর নিষ্ঠুর নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি নামাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক।এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে উপজেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ‎ ‎প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়—টুকুরিয়া ইউনিয়নের সুজারকুঠি গ্রামের বাসিন্দা আতাউর মাস্টার স্থানীয় টুকুরিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সহসভাপতি। তার মেয়ে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। একই বিদ্যালয়ের একই শ্রেণিতে পড়ুয়া দুদিয়াবাড়ী গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাজিদের সঙ্গে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ করেন আতাউর মাস্টার ও তার স্বজনরা। সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে শনিবার রাত ৯টার দিকে কিশোর সাজিদকে ধরে নিয়ে যান ঐ জামায়াত নেতা ও তার লোকজন। এরপর সাজিদকে একটি গাছে রশি দিয়ে হাত বেঁধে লাঠি ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। এক পর্যায়ে কিশোরটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে জামায়াত নেতার স্বজন ও পরিবারের কয়েক জন নারী সদস্য তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে সাজিদের স্বজনরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেন আতাউর মাস্টার ও তার সহযোগীরা। পর দিন ভোরে স্বজন ও এলাকাবাসীকে ডেকে এনে সাজিদকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ‎ ‎নির্যাতনের শিকার সাজিদ হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে জানায়, মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে সারা রাত গাছে হাত বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। ‎ ‎ ‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা আতাউর মাস্টার বলেন, ‘ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতিসহ আমরা পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করেছি।’ মারধরের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, ‘একটু শাসন করা হয়েছে।’ তবে পীরগঞ্জের টুকুরিয়া ইউনিয়নের জামায়াতের সভাপতি রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানতে পেরে রাতে সেখানে গিয়েছিলাম। পরে অসুস্থ বোধ করায় চলে আসি।’ ‎ ‎ ‎নির্যাতিত সাজিদের স্বজনরা জানান, জামায়াত নেতা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় পুরো ঘটনাটি চেপে যাওয়ার জন্য তাদের অনবরত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। ‎ ‎রংপুরের পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‎ ‎