রাজধানীর মিরপুরের শাহআলী ও দারুসসালাম থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৪টি ৫০০ টাকার জাল নোটসহ (সর্বমোট ৭,০০০ টাকা) দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও একজন পলাতক রয়েছেন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে শাহআলী থানাধীন এইচ-ব্লকের গুদারাঘাট এলাকা থেকে স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় প্রথমে মোঃ সাব্বির সরদার (২৫) নামে এক যুবককে ১০টি ৫০০ টাকার জাল নোটসহ আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দারুসসালাম থানাধীন জাহানাবাদ এলাকা থেকে মোঃ রাকিবুল ইসলাম (২২) নামে আরও একজনকে ৪টি জাল নোটসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আটককৃত সাব্বির সরদারের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল এলাকায় এবং রাকিবুল ইসলামের বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয় জনগণ সাব্বিরকে জাল নোটসহ আটক করে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে শাহআলী থানার এসআই মোঃ আমীর হামজা ও এসআই জিয়াউর রহমানসহ পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাব্বিরকে হেফাজতে নেয়। উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে তার পকেট থেকে ৫,০০০ টাকার জাল নোট (১০টি ৫০০ টাকার নোট) উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির জানায়, সে এই জাল টাকা রাকিবুল ইসলামের কাছ থেকে লেনদেনের জন্য এনেছিল। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শাহআলী ও দারুসসালাম থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে বিকেল ৫:১৫ মিনিটে জাহানাবাদ এলাকা থেকে রাকিবুল ইসলামকে আটক করে। পরে তার কাছ থেকে আরও ২,০০০ টাকার জাল নোট (৪টি ৫০০ টাকার নোট) উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা জানায়, তারা দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধভাবে জাল নোট হেফাজতে রেখে গোপনে লেনদেন করে আসছিল। এসব জাল নোটের মূল যোগানদাতা গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী এলাকার মোঃ রোমান তালুকদার (৩৪)। পুলিশি অভিযানের টের পেয়ে রোমান তালুকদার পালিয়ে যায়।
মামলার বাদী এসআই আমীর হামজা জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৮০ (১৯৭৪) সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫-এ/২৫-ডি ধারায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পলাতক আসামি রোমান তালুকদারকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।